শেখ হাসিনার ওপর প্রামাণ্যচিত্র: সিনেমা হলের বানান ভুল নিয়ে উকিল নোটিশ, ফেসবুক সরগরম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র চলার সময় প্রেক্ষাগৃহের ডিসপ্লে স্ক্রিনে একটি বানান ভুল নিয়ে উকিল নোটিশ পাঠানোর খবর দিনভর আলোচিত হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভুলটিকে ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্য মানহানিকর’ বলে বর্ণনা করে সিনেমা হলটিকে উকিল নোটিশ পাঠান একজন আইনজীবী।

ঘটনাটি ঘটে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় ব্লকবাস্টার সিনেমাস-এ ‘হাসিনা: এ ডটার্স টেল’ (হাসিনা: এক কন্যার কাহিনি) নামে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর সময়। প্রেক্ষাগৃহের টিকিট কাউন্টারের কাছে একটি পর্দায় ইংরেজিতে দেখানো হচ্ছিল ওই হলে কখন কি ছবির প্রদর্শনী হবে।

এতেই ছবির নামের শেষ শব্দটি ‘Tale’ (কাহিনি) এর পরিবর্তে ভুল বানানে ‘Tail’ লেখা হয় – যার অর্থ ‘লেজ’। ফলে পুরো নামটির অর্থই পাল্টে যায়।

রোববার সন্ধ্যা নাগাদ সিনেমা হলটির একজন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানান, ভুলটি সংশোধন করা হয়েছে। তবে এ ভুল কেন এবং কিভাবে হলো – এ সংক্রান্ত প্রশ্নের কোন জবাব দেন নি তিনি।

বাংলাদেশ আওয়ামী ব্রিটিশ ল’ স্টুডেন্টস’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ আল আলম চৌধুরীর পক্ষে ব্যারিস্টার নওরোজ এম আর চৌধুরী লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।

নওরোজ এম আর চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই বানান ভুলটি তাদের নজরে পড়ে শুক্রবার, এবং তখনই তার মক্কেল সিনেমা হলের একজন কর্মক

“আমরা মনে করছি না যে তারা এটা ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছেন, হয়তো অবহেলা বা অজ্ঞানতার কারণেই হয়ে গেছে – কিন্তু এ কারণে তো একটা নেগেটিভ ইমপ্রেশন পড়তে পারে” – বলেন মি. চৌধুরী।

মি. চৌধুরী তার লিগ্যাল নোটিসে লেখেন, এই ‘দুষ্ট’ বানান ভুলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদার যে ক্ষতি হয়েছে – তা এক হাজার কোটি টাকার সমমূল্যের।

এর কিছু পরেই ব্লকবাস্টার সিনেমাস-এর অপারেশন্স হেড আহমেদ রানা বিবিসি বাংলাকে জানান: ভুলটি সংশোধন করা হয়েছে এবং এ নিয়ে তারা আর কিছুই বলতে চান না।

এই বানান ভুলের ঘটনা নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-বিতর্ক ও হাসি-মশকরার সৃষ্টি হয়।

ফেসবুকে খালেদ সাইফুল্লাহ নামে একজন ছবি সহ এক স্ট্যাটাস দিয়ে লেখেন: শেখ হাসিনাকে নিয়ে বানানো তথ্যচিত্রের নাম ‘HASINA- A DAUGHTER’S TALE’ কিন্তু যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমা হল তাদের প্রদর্শণীতে ‘HASINA- A DAUGHTER’S TAIL’ হিসেবে লিখেছে যার মানে হচ্ছে: “হাসিনা – একজন কন্যার লেজ।”

মকবুল হোসেন নামে একজন মন্তব্য করেন: “কি রিএক্ট করবো, হাসবো না কাঁদবো।” এর পর তিনি ইংরেজিতে লেখেন “Tale becomes tail which is definitely defamatory” – অর্থাৎ ‘ভুলটি নিশ্চয়ই সুনামহানিকর।’

সাকলায়েন শায়ন নামে একজন লেখেন:”ইটস জাস্ট এ টাইপো ব্রো। তোমরা মনে হচ্ছে মশা মারতে কামান ডাকতেছ।”

সাব্বির আহমেদ নামে আরেকজন লেখেন: যমুনা ফিউচার পার্কে এখনই যাচ্ছি দেখে ছবি তুলবো।”

রাফাত সরকার রিফাত নামে এক ইউজার মন্তব্য করেন: “ব্রো,মানুষ মাত্রই ভুল, সো ভুল হইতেই পারে, এটা আবার এইভাবে শেয়ার দেয়ার কিছুই নাই!”

মূল ছবিটি অবশ্য অনেকেরই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে বলে সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়।

তানভেন সুইটি নামে একজন লেখেন: “৭০ মিনিটের এই ডকুফিল্ম দেখলে তারা জানতে পারবে এই দেশের সত্যিকারের ইতিহাস। আমি অসাধারণ এক অনুভূতি নিয়ে হল থেকে বেরিয়েছি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা আপা অসাধারণ মনের মানুষ।”

লিটন দেওয়ান নামে আরেকজন লেখেন: “কেমন যেন এক অনুভূতি.. ডকুফিল্মটি দেখে কখনো বিস্মিত হয়েছি , কখনো বাকরুদ্ধ হয়েছি, কখনো কেঁদেছি ।”

তিনি লেখেন, “একজন মানুষের কতটা অসীম মনের শক্তি, সাহসী মনোবল , দৃঢ়তা , নিষ্ঠা, দেশপ্রেম মনে নিয়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে জীবন যুদ্ধে শূন্য থেকে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার উদাহরণ।”

র্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু একদিন পার হয়ে গেলেও তা সংশোধন না করায় তারা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, বানান ভুলটি আপত্তিকর ছিল। হল কর্তৃপক্ষ যেন এটি দ্রুত সংশোধন করেন এবং জনসাধারণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন – সেটাই ছিল তাদের নোটিশ পাঠাবার পেছনে মূল উদ্দেশ্য।

Courtesy by: BBC  বাংলা