এক ম্যাচ আগেই সিরিজ বাংলাদেশের

দাপটেই শুরু হয়েছে সিরিজ। মিরপুরে প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে নতুন করে ব্যবধান বুঝিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এসে সেই ব্যবধান হয়ে উঠলো আরও পরিষ্কার, আরও বড়। মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের বিপক্ষে একপ্রকার বিধ্বস্তই হতে হলো জিম্বাবুয়েকে।

লিটন কুমার দাস ও ইমরুল কায়েসের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিল মাশরাফিবাহিনী। ২৬ অক্টোবর একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটি হয়ে উঠলো নিতান্তই নিয়ম রক্ষার।

যদিও ম্যাচটি শেষপর্যন্ত নিয়ম রক্ষার থাকবে না। কারণ সিরিজ জিতে নেওয়া বাংলাদেশের দৃষ্টি এখন হোয়াইটওয়াশে। তাই তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেও জয়ের জন্য মরিয়া থাকবে বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ের লড়াই থাকবে হোয়াটওয়াশ থেকে নিজেদের রক্ষার করার।

বুধবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করা জিম্বাবুয়ে প্রথম ওয়ানডের মতোই সংগ্রহ গড়ে। মিরপুরে ২৪৩ করা সফরকারীরা এদিন ৯ উইকেটে ২৪৬ রান তোলে। সফরকারীদের করা এই রান অনেকটা তুরি মেরেই তুলে নেয় বাংলাদেশ। ১৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি পাওয়ায় পরের ব্যাটসম্যানরা নির্ভার ব্যাটিং করেই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশকে এদিন খারাপ শুরুর হতাশায় ভুগতে হয়নি। দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও ইমরুল কায়েস দলকে দুর্বার সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪৮ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। শুরুতে কিছুটা হিসেবি ব্যাটিং করলেও ক্রমেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে নিয়েছেন তারা।

১৬ ওভারেই স্কোরকার্ডে ১০০ রান যোগ করে ফেলেন লিটন-ইমরুল। প্রথম ওয়ানডের সেঞ্চুরিয়ান ইমরুল ঠান্ডা মেজাজে থাকলেও লিটন হাতখুলে খেলেছেন। দুই ওপেনাররের জুটি যখন ১৫০ ছুঁইছুঁই, তখন কপাল পোড়ে লিটনের। শট খেলতে গিয়ে কভার পয়েন্টে ধরা পড়েন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

ফেরার আগে ৭৭ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ৮৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন লিটন। এরপর কিছুটা অস্বস্তিতেই পড়তে হয় বাংলাদেশকে। অভিষেকে রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হওয়া ফজলে রাব্বি এদিনও একই পথে হেঁটেছেন। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকের পর টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার বিব্রতকর রেকর্ডকে সঙ্গী করে মাঠ ছাড়তে হয় বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে।

তবে দিক হারাননি প্রথম ম্যাচে ১৪৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলা ইমরুল। মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন বাঁহাতি এই ওপেনার। দলের রান বাড়িয়েছেন আর নিজেকে নিয়ে গেছেন সেঞ্চুরির খুব কাছে। কিন্তু ইমরুলও তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সাজঘরে ফিরতে পারেনি। লিটনের মতো তাকেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

সেঞ্চুরি থেকে ১০ রান দূরে থাকতে তুলে মারতে যান ইমরুল। সীমানা ছাড়া করতে পারেননি। ধরা পড়ে যান এল্টন চিগুম্বুরার হাতে। ৯০ রানের ইনিংসটি খেলতে ইমরুল খরচা করেন ১১১ বল। চার হাঁকিয়েছেন সাতটি। দলকে জয় এনে দেওয়ার জন্য বাকি কাজটুকু করেছেন মুশফিক ও মোহাম্মদ মিথুন। মুশফিক ৪০ ও মিথুন ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের ভালো শুরু হয়নি। দলীয় ১৮ রানেই অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে ফিরিয়ে দেন তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শুরুতেই উইকেট হারানোর চাপ অবশ্য দলকে বুঝতে দেননি চেফাস ঝুয়াও ও ব্রেন্ডন টেলর। এই জুটি জিম্বাবুয়েকে ৭০ রানে পৌঁছে দেয়। ২০ রান করে ঝুয়াও বিদায় নেওয়ার পর টেলরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শন উইলিয়ামস।

এই জুটি থেকে আসে ৭৭ রান। টেলর এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু দেওয়াল তুলে দাঁড়িয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ৭৫ রান করা টেলরকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। ৪৭ রান করা উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে দাপট দেখানো সিকান্দার রাজা জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের স্বপ্নই দেখাচ্ছিলেন।

রাজাকে ৪৯ রানে থামিয়ে সেটা হতে দেননি বাংলাদেশের তরুণ পেসার সাইফউদ্দিন। পিটার মুরের ১৭ রানে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৪৬। ৪৫ রান খরচায় তিনটি উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।