কবি নরত্তম হালদারের ৫ টি কবিতা

ঢেউ

এমন নদীর ভিতরেই
শুয়ে থাকে কতক শতক গাং .
তারা করুণা প্রত্যাশী হয়
অপেক্ষা করে কিছু ঢেউয়ের জন্য.
যে ঢেউ আছড়ে প’ড়ে
নদীর পেশিগুলোকে ভিন্ন স্রোতে বইয়ে দেয়.
যে স্রোত নারী পুরুষের মিলিত কণ্ঠস্বর
ভিন্ন পথে দোলায়.
আমাদের প্রেমিকারা ভেসে উঠুক
সেইসব পেশির ভাজে।

 

বিয়ের পর

বিয়ের পর তোমার মুখটা নাগরিকদের মতো লাগে।
আগের মতো তাকাবার ভোল হারিয়েছো।
তোমাকে দেখে সেদিনের
ফেলে রাখা হেডফোনটা বার করতে গিয়ে বুঝি
অক্ষরে সামাজিকতা লেখার মতো
ব্যাগের চেইন মরচে পড়ে গেছে বেশ।
তেমনটা আর একটানে খোলা যায় না।
তুমি কি শুনছো আমায়?
একটা মরচে পড়া চেনে
তোমার কৈশোর আটকে গেলে সমাজ কি বলবে?

 

গোড়া

শেষ পর্যন্ত যেখানে গীয়ে দাড়াতে হলো
ধরো এইটাই শিকড়
নাম যদি তার অতীত হারিয়ে আসে
কেন তারে এতো বঞ্চনা দেই
কেন তারে নাহিবারে চাই

যারে চাইতে হওয়া দরকার
তারে কেন চাইতে হইতে হয়
তারে যদি না চাইতে আর না পাইতে থাকি
আমি যেন লুটায়ে পড়ব না হেলান দেয়া টুলের উপর পা লম্বা কইরা

তারে খুজতে খুজতে হারিয়ে ফেলার চেষ্টায় খাতার গোটা কয়েক পৃষ্ঠা গেলো খইসা

শেষ পর্যন্ত চাওয়ারে দূরে ঠেলতে না পাইরা
গাছের মাঝেই যেন আশ্রয়ের শিকড় হইয়া যাউক।

 

স্পর্শ

এসো সহজতার কাছে পরাজিত হই
নিরবতার কাছে হৃদয় খুলে দেই
যেভাবে প্রতিবিম্বিত হই পরস্পর।

সেচ দিয়ে দিয়ে
আমরা আমাদের হয়ে উঠবার শর্তগুলোকে
আরো সজীব করি।

অনুবাদগুলো হোক স্বরলিপি।
আমাদের উপাসনার প্রতীক
বাধ ভেঙে সমুদ্রে মিশতে পারা।
যেভাবে ফুল সৌন্দর্যের।

মৃত্যুভয় শেষে ভালবাসাই বেচে থাকার শর্ত।
দুপুর ফুরিয়ে এলে ডালিমের মৌচাকে মধু ত্বরিত হবে।

পরাজয় ধরে ফেললে পান করবো পরস্পরের কণ্ঠস্বর।
পরিচিত বিকেলে পাখিরা রাষ্ট্র করে দেবে
একাগ্রতায় কিছু ফিরে আসার গল্প।

 

অপেক্ষা 

ছুটিয়ে বাতাস ফুটিয়ে সূর্যমুখী
মেলাও গীয়ে আমার ধানের মাঠে-
পথ হারালেই তন্দ্রাবতীর ঘাট
বাকাও তুমি অমৃততর হিয়ে।

কেয়া ফুলের ঘোমটা মাথায় দিয়ে
তিসিরা সব মাঠের পরে মাঠ-
ছাতি মাথায় ছুটি আমি ঘাটে
যেথায় তোমার সহজতর উঁকি।

আমার পাশে বৌচি খেলার বিল
বিলের পাশে বসে আমি একা-
দুজন বসে একাকী নির্জনে
ভাবছি কখন গেলে হেথা দিয়ে।

কোন বেলা আজ বেরিয়ে থলে বেয়ে
করলে ধরা হরিণ বনের পানে-
ঘাট বেয়ে ঘাট প্রহর আসে একা
বাদলা এসে ডুবিয়ে দিল বিল।