ফিরোজ আহমেদের গদ্য

ঈদের গদ্য

বিশাল আবিষ্কার! বিশাল আবিষ্কার!বিশাল আবিষ্কার!
তাও একটা না ,এক দিনে দু’দুটো। শোনার সাথে সাথেই
চমকে ওঠার মতন আবিষ্কার ! দুটোই তাক লাগানো ।
আমি যে এমন কিছু একটা আবিষ্কার করে বসতে পারবো সেটা- আমি কেন – কেউই কক্ষনো ভাবতে পারেনি । আরে আরে ..অধৈর্য হবেন না..বলছি বলছি..
খুব মন দিয়ে শুনুন এবং মনে রাখুন .. কাজে লাগবে ..

প্রথমটা হলো –
যখন কারো চরম টয়লেট লাগে (বড়টা), মনে করেন অবস্থা এইরকম যে – এক মুহুর্তের ব্যাবধানে একটা যাচ্ছে না তাই হয়ে যেতে পারে , লুঙ্গি পরা থাকলে তবু বাঁচোয়া , কিন্ত প্যান্ট জাঙিয়া পরা থাকলে – খোলবারও সময় নেই ,ইজ্জত মান যেন যায় যায় ..
আমার বিশাল আবিষ্কারটি হোলো – এই রকম সময়ে মানুষ মিথ্যেকথা বলতে পারেনা .. প্রমাণ এক্কেবারে হাতেনাতে ..
একজায়গা থেকে কিছু টাকা পাবার কথা ছিল –
পেয়েছিলামও । এবং মনে মনে ফন্দি এঁটে রেখেছিলাম
যে বৌকে কিছু বলবো না । এমন সময় চাপ দেখা দিল।
বাড়ির গেটে এসে একেবারে অধৈর্য অবস্থা … বেল্ট বোতাম চেন খুলতে খুলতে ঘরে ঢুকতেই বৌ বলল –
কি খবর ..
আমি বল্লাম – টয়লেট ..
বৌ আবার বলল – পেয়েছো ?
আমি বল্লাম .. আরে হ্যা হ্যা .. পকেটে ..সরো সরো ..।
যাহোক তবু ইজ্জত মান রক্ষা হলেও সম্পদ গেল গোল্লায় ।

এসব ছিল দুপুরের আগেকার ঘটনা । ঐ দিনই বিকেলে
চা খেতে খেতে আমার মনে হোলো যে – তাইতো ! –
আমি যে শত শত মানুষের থেকে ভালো লিখি…
চা’র কাপ যত ফুরিয়ে আসতে লাগলো – আমার বিশ্বাস যেন তত নিখুঁত, নির্ভেজাল, শক্তপোক্ত হয়ে উঠলো যে আমি শয়ে শয়ে মানুষের থেকে নিঃসন্দেহে ভালো লিখি । ধারণাটা বর্ষায় পুঁইচারার মতন যেন দেখতে দেখতে মোটা, পাতাবহুল, সবুজ এবং ভরন্ত হয়ে উঠলো ।
বলতে পারেন যে – এটা আবার কি এমন বলার মতন আবিষ্কার .. যাঁরা লেখেন তারা তো সবাইই মনে করেন যে তিনি শত শত মানুষের থেকে ভালো লেখেন – এটা মনে না করলে তো তিনি লিখতেন না । চায়ের কাপ নামিয়ে রেখেই – লেখালিখির এই মূল ব্যাপারটা আবিষ্কৃত হয়ে বসলো হঠাৎ , যে …
আমি শতে শতে মানুষের থেকে ভালো লিখি ..এটা খুবই সত্যি কথা , আর এটাও সত্যি যে – হাজারে হাজারে মানুষ আমার থেকে ভালো লেখেন ।
ভেবে দেখেছি এ যাবত এটাই আমার সেরা আবিষ্কার গুলোর ভেতর সেরা । আমি শত শত মানুষের থেকে সেরা আর হাজার হাজার মানুষ আমার থেকে সেরা ।

নিজের সাথেও মেলান ! দেখেন মেলে কি না – মিললে কমেন্ট করেন । না মিললে থাকগে !