আট জেলায় ১৯৩ জনের দেহে এইডস শনাক্ত

(ইউএনবি) দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলায় অন্তত ১৯৩ জন এইচআইভির জীবাণু বহন করছেন। শুধু খুলনা জেলাতেই ৮৪ জনের শরীরে এইচআইভির জীবাণু শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৩ পুরুষ ও ৩১ নারী রয়েছেন।

খুলনা বিভাগে এইডস নিয়ে কাজ করা ‘মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণাঞ্চল ও সংলগ্ন জেলা ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল ও মাগুরায় ১০৯ জন এইডসে আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা খুলনা অঞ্চলে এইচআইভি জীবাণু ছড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ভারত থেকে ফিরে আসা। আক্রান্তের তালিকায় দুই-একজন হিজড়ার নাম রয়েছে। তবে এই অঞ্চলে যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীদের শরীরে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

প্রতি বছর এইডস আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে এইডস আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে ১২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও চারজন নারী।

সংস্থাটির রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর ২১ পুরুষ, ১৫ নারী ও একজন হিজড়া নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়। আর ২০০৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা সংস্থাটির প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই করেছেন এবং তাদের তথ্যগুলো সঠিক বলে দেখতে পেরেছেন।

মুক্ত আকাশের এক মুখপাত্র জানান, অভাবের তাড়নায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষ কাজের আশায় বছরে তিন থেকে চার বার ভারতে যান। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এইডস ছড়াচ্ছেন। বিশেষ করে বেনাপোল, চৌগাছা ও খুলনা শহরে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (খুমেক) সূত্রে জানা যায়, শুধু খুমেকে এ বছর এইচআইভিতে নতুন আক্রান্ত হয়ে ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন।

মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী রেহেনা বেগম জানান, এ সংস্থার পক্ষ থেকে মরণব্যাধি এইডস সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের পুষ্টি ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।