পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ তৈরির জন্য স্থাপনার কাজ শেষ করেছে ইরান

অত্যাধুনিক পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ তৈরির জন্য স্থাপনার কাজ শেষ করেছে ইরান। গতকাল রোববার ইরানের আণবিক সংস্থার প্রধান জানান, পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় যদি এই চুক্তি শেষ হয়ে যায়, তাহলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তুত ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত জুনে ইরানের আণবিক সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহি বলেন, নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের স্থাপনার কাজ এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানান, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ইউরোপীয় সরকারগুলোর কথাবার্তা থেকে মনে হচ্ছে, তারা চায় ইরান নিষেধাজ্ঞাও সহ্য করবে আবার পরমাণু কর্মসূচিও বন্ধ রাখবে। নিশ্চিতভাবেই খুব শিগগির ইরানের জন্য পরমাণু তৎপরতার প্রয়োজন দেখা দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ সালেহির বরাত দিয়ে জানায়, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনি আমাদের অত্যাধুনিক সেন্ট্রিফিউজসমৃদ্ধ খুবই উন্নত পারমাণবিক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখন সেই কাজ শেষ হয়েছে।’

ওই বার্তা সংস্থাকে সালেহী বলেন, ইরানের পরিকল্পনা ছিল, চুক্তির মধ্যে থেকে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে জাহাজের জন্য উন্নতমানের পরমাণু চুল্লি নির্মাণের। তবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে আসায় ওই চুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা বাতিল হয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ভলিউম এবং সমৃদ্ধির স্তর।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইউরোপীয় প্যাকেজ কতটুকু লাভজনক হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে থাকবে কি থাকবে না।

২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয় ছয় জাতি চুক্তি। ওই চুক্তি থেকে চলতি বছরে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।