সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়েও ঠেকানো যায় নি নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙন

ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এই অর্থে জিও ব্যাগ ফেলে স্রোতের গতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের ধারনা, প্রয়োজনের তুলনায় জিও ব্যাগ অপ্রতুল এবং ধীর গতিতে কাজ হওয়ায় কোনো সুফল আসেনি সরকারের এ অতিরিক্ত বরাদ্দে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে উত্তাল পদ্মার স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং জিও ব্যাগ ডাম্পিং-এর কাজ আরো জোরদার করা হয়।
ইতিমধ্যে পদ্মার ভাঙন ঠেকানো ও উত্তাল পদ্মার স্রোতেরগতিপথ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য চর কাটার জন্য একটি ড্রেজার নড়িয়ায় পৌঁছেছে। সোমবার ওই ড্রেজারটি নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন পদ্মা নদীতে অবস্থান নিয়েছে। আরও একটি ড্রেজার টাক বোর্টের মাধ্যমে কাঁঠালবাড়ী থেকে রওনা দিয়েছে বলে জানান ড্রেজার কোম্পানির কনসালটেন্ট শামিম আহমেদ। শামিম আহমেদ বলেন, ডেজিং করার জন্য পাইপ লাইন ও আনুষাঙ্গিক কাজ করে দ্রুত সময় চর কাটার কাজ শুরু করা হবে। নড়িয়ার ইউএনও সানজিদা ইয়াসমিন বলেছেন, তীব্র স্রোতের কারণে ড্রেজারগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছতে একটু বেশি সময় লাগছে।
সরেজমিন গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মার স্রোতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও আতঙ্ক কাটেনি ওই এলাকার ভাঙন কবলিতদের। তাদের ধারণা, পানি কমতে শুরু করলেই যে কোনো সময় আবারও ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। এমন আতঙ্কে পদ্মা পাড়ের শত শত পরিবার গাছপালা কেটে এবং সাজানো গোছানো ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এছাড়াও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতের রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও ১১টি ভবনসহ প্রায় ২০০ বছরের মুলফৎগঞ্জ বাজারের পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী মুলফৎগঞ্জ আলিয়া মাদরাসা।
আরও জানা গেছে, এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরু থেকে নড়িয়া উপজেলার ইশ্বরকাঠি, বাঁশতলা ও মুলফৎগঞ্জ এলাকায় ব্যাপকভাবে পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়। ভয়াবহ এ ভাঙনে প্রতিদিন শত শত পরিবারের সাজানো গোছানো পাকা বাড়িঘরসহ নতুন নতুন স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত ৩ মাসে নড়িয়ায় গৃহহীন হয়েছেন ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার। উত্তাল পদ্মার ভয়াবহতা শত বছরের ইতিহাসে কেউ দেখেনি বলে জানিয়েছেন ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা।
এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, আমরা গত দুই দিনে পদ্মার ভাঙনে আশ্রয়হীন ৩৭৫ পরিবারের মধ্যে ২ বান্ডিল করে ঢেউটিন ও ৬ হাজার করে নগদ টাকা বিতরণ করেছি। এছাড়াও আশ্রয়হীন মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য ৫টি নলকূপ, স্যানিটেশন সুবিধার জন্য ৫০টি স্যানেটারি লেট্রিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

Courtesy: amaderorthoneeti